স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়া জেলায় ভণ্ড জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের মূল হোতা মহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসময় প্রতারণায় ব্যবহৃত নানা ধরনের আলামত উদ্ধার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মোমিনুর রহমান (৬৫) সোনাতলা থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, সোনাতলা উপজেলার রানিরপাড়া গ্রামের তোজাম আকন্দের ছেলে মহিদুল ইসলাম (৩৫) ‘জ্বিনের বাদশা’ ও কবিরাজ পরিচয়ে অলৌকিক ক্ষমতার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে।
বাদী জানান, মহাস্থান এলাকায় একটি ইসলামী জলসায় মহিদুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে কথাবার্তা চলতে থাকে। ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাদীর মেয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন যে মহিদুলের বাড়িতে ইসলামী জলসা আছে। বাদীসহ আরও কয়েকজন সেখানে গেলে পরদিন খাবারের সঙ্গে কোনো ধরনের ওষুধ বা ঝাড়ফুঁক প্রয়োগ করে তাকে অস্বাভাবিক অবস্থায় রাখা হয়, যাতে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন।
এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে প্রায় সাত দিন ধরে মহিদুল ও তার সহযোগীরা নগদ অর্থ ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ১২ লক্ষ টাকা আদায় করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর সোনাতলা থানায় মামলা নং—০২, তারিখ—০৪/১২/২০২৫; ধারা—৪২০/৩৮৬/৩৪/৫০৬ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. আরিফুল ইসলাম-২ এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম মহিদুলের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে ২টি কথিত হাড়, ২টি সুরমাদানি, ৩টি লাল কাপড়, ১টি আতর, ২টি তাবিজ, ৩ টুকরা সাদা কাপড়, ৩টি তসবিহ (ছোট-বড়), ৫টি আগরবাতি ও কালো সুতা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহিদুল স্বীকার করেছে যে, তিনি কবিরাজি চিকিৎসা ও অলৌকিক ক্ষমতার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করতেন।
গ্রেফতারকৃত মহিদুল ইসলামকে আজ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

