দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
ভূমিকম্পের পর তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নেপাল। দেশটির চীন সীমান্তবর্তী রাসুওয়া জেলায় বুধবার আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৪০০ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকায় নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। প্রবল পানির স্রোতে অনেক স্থাপনা ও যানবাহন ভেসে গেছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর তুষারধসের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও তদন্তাধীন। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, তুষার, বরফ ও পাথরের ধসে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পরে হঠাৎ পানির ঢল নেমে আসতে পারে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তালিকায় নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
রাসুওয়া ছাড়াও নুয়াকোট ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা হেলিকপ্টার এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের নিয়ে অভিযান শুরু করেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামোর কারণে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এদিকে চীনের তিব্বত অংশেও বন্যায় হতাহত ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। ফলে নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

