https://pranershohorbd.net/wp-content/uploads/2022/09/logo-ps-1.png
ঢাকাMonday , 5 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া বার্তা
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি বার্তা
  12. খাগড়াছড়ি
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. খোলা কলাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রঙিন আলোয় রঙিন জীবন, সার্কাসের জোকারের তাঁবু গুটোলেই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

admin
October 5, 2026 8:34 am
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শেরপুরে বথুয়াবাড়ী সার্কাসের মঞ্চে আলো জ্বলে উঠতেই বদলে যায় জোকার মো. আব্দুর রহিমের চেহারা। রঙিন পোশাক, মুখে নানা রঙের প্রসাধন, নাকে লাল নকল নাক। কখনো অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাঁটেন, কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার অভিনয় করেন। মুখে কোনো সংলাপ নেই, অথচ দর্শকদের হাসি থামে না। বিশেষ করে শিশুরা তাঁর কাণ্ডকারখানায় আনন্দে মেতে ওঠে। কেউ হেসে ওঠে, কেউ হাততালি দেয়। কয়েক মিনিটের জন্য সার্কাসের তাঁবুর ভেতর তৈরি হয় আনন্দের এক অন্যরকম পরিবেশ।

এই আনন্দের কারিগর আব্দুর রহিমের বয়সের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর সার্কাসজীবনের দীর্ঘ পথচলা। প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনি এই পেশায় যুক্ত। পাবনা জেলার এই মানুষটির বেড়ে ওঠাও সার্কাসের সঙ্গে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের ‘দি কিং স্টার সার্কাস’-এর সঙ্গে ঘুরছেন দেশের বিভিন্ন মেলা ও অনুষ্ঠানে।

রহিমের ভাষা শব্দের নয়, শরীরের। পড়ে যাওয়া, অদ্ভুত হাঁটাচলা, নানা অঙ্গভঙ্গি, বাঁশ, বল ও রিং নিয়ে কসরত এবং ভারসাম্যের খেলার মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দেন তিনি। জোকারির পাশাপাশি উচ্চলম্ফ, দীর্ঘলম্ফ, ডিগবাজি ও রডের খেলাও দেখাতে পারেন এই শিল্পী।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া-বথুয়াবাড়ী এলাকায় দি কিং স্টার সার্কাসের তাঁবুতে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। সার্কাসের প্রতি ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা শিল্পীগোষ্ঠী এই জগতটা ধরে রাখতে চাই। জোকারি করতে ভালো লাগে। মানুষকে হাসানো আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অভিনয় দেখে দর্শক হাসে, এটা আমাদের ভালো লাগা।’

কথাগুলো বলার সময় তাঁর মুখে পেশার প্রতি তৃপ্তি থাকলেও বাস্তবতার কথা উঠতেই সেই স্বস্তি অনেকটা মিলিয়ে যায়।

আব্দুর রহিম বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছর আগেও সার্কাসের অনেক কাজ ছিল। এখন খেলা অনেক কমে গেছে। মেলা আগের মতো জমে না, সার্কাসও মানুষ কম দেখে। কাজ থাকলে দিনে প্রায় এক হাজার টাকা সম্মানী পান তিনি। কিন্তু সার্কাসের কাজ নিয়মিত না থাকায় আয়ও অনিয়মিত। তিনি বলেন, ‘সার্কাসের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে ভালো আছি। তবে খেলা না থাকলে খারাপ লাগে।’

একই চিত্র আরেক শিল্পী ফয়সালের জীবনেও। তাঁর কাছে সার্কাস শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, ভালোবাসার জায়গাও। কিন্তু সেই ভালোবাসার জগৎ এখন আর আগের মতো নেই।

ফয়সাল বলেন, ‘আমরা মানুষকে আনন্দ দিই, নিজেরাও আনন্দ পাই। কিন্তু সার্কাসের আগের সেই জৌলুশ আর নেই।’

একসময় বছরের প্রায় ১০ মাসই সার্কাস নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হতো তাঁদের। ১৫ বছর আগেও ছিল সেই ব্যস্ততা। এখন সার্কাসে কাজের সময় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ মাসে। বছরের বাকি সময় বাড়িতে বসে থাকতে হয়। সংসার চালাতে ছোটখাটো কাজ খুঁজতে হয়। কোনো কাজ পেলে সেটিই করেন।

এই শিল্পীর কাছে সার্কাসের সংকট শুধু দর্শক কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মেলা ও সার্কাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা জটিলতার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, মেলার অনুমতি পাওয়া গেলেও অনেক সময় সার্কাসের অনুমতি মেলে না। আবার সার্কাসের অনুমতি পাওয়া গেলেও মেলার অনুমতি পাওয়া যায় না। এভাবেই নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে চলছে তাঁদের জীবন।

এই নীরব কষ্টের গল্প শুধু দুই জোকারের নয়। তাঁদের মতো আরও অনেক শিল্পীর জীবন জড়িয়ে আছে সার্কাসের সঙ্গে। কেউ কয়েক দশক ধরে এই পেশায় আছেন, কেউ আবার ছোটবেলা থেকেই সার্কাসের তাঁবুকে নিজের ঘর মনে করে এসেছেন। তাঁদের কাছে সার্কাস কেবল বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি তাঁদের পরিচয়, জীবিকা ও ভালোবাসার জায়গা।

দি কিং স্টার সার্কাসের স্বত্বাধিকারী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘জোকাররা সার্কাসের অন্যতম অংশ। জোকার না থাকলে সার্কাসের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আগের মতো আর সার্কাসের আয়োজন করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া মেলার সংখ্যাও অনেক কমে গেছে। সময়মতো অনুমতি না পাওয়ায় অনেক আয়োজন বন্ধ থাকে। ফলে জোকারদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জোকারদের অনেকে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অন্য জায়গায় কাজের সুযোগ পান না। অন্যরাও তাঁদের কাজ দিতে আগ্রহী হন না। ফলে সার্কাসই তাঁদের আয়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।’

মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন জোকার পড়ে যাওয়ার অভিনয় করেন, দর্শকেরা হাসেন। তাঁর অদ্ভুত হাঁটাচলায় শিশুরা হাততালি দেয়। কিন্তু রঙিন পোশাক খুলে ফেললে সামনে আসে অন্য এক মানুষ, যাঁর জীবনের রং অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।

সার্কাসের তাঁবুতে এখনো হাসির শব্দ শোনা যায়। তবে সেই হাসি ধরে রাখা মানুষগুলোর জীবনেই ক্রমেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। মঞ্চের আলো যতক্ষণ জ্বলে, তাঁরা মানুষকে হাসান। আলো নিভে গেলে শুরু হয় নিজেদের জীবনের হিসাব।

আমাদের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল"প্রাণের শহর বিডি'র জন্য সারাদেশব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন অথবা সিভি পাঠিয়ে দিন। সিভি পাঠানোর ইমেইল Mintuislam59@gmail.com, আমাদের দৈনিক প্রাণের শহর বিডি অনলাইনে সারাদেশের পাঠকরা নিউজ পাঠাতে পারেন" নিউজ পাঠানোর ইমেইল pranershohorbd@gmail.com এ। আমাদের খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।