দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় ও দ্বীপরাষ্ট্রসহ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সৃষ্ট বহুমাত্রিক ও অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত ৭৮/৫৫৮-এর আওতায় আয়োজিত ‘Existential Threats Posed by Sea-level Rise’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন। এর ফলে উপকূলীয় জনপদ, ছোট দ্বীপরাষ্ট্র, নিম্নাঞ্চল ও বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, খাদ্য ও পানির নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে বহুমাত্রিক প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ন্যায়সংগত ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ও নিম্নাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকার স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, অর্থনীতি ও পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। উপকূলীয় বন্যা, ভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির মতো সমস্যাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে আয়োজিত এ বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

