ঢাকা প্রতিনিধি: ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নকল ও ভেজাল প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ দেশের ১৬টি জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ, হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল ও ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা হয়।
এ ছাড়া হোটেল-রেস্তোরাঁয় সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রতিপালন, খাদ্যপণ্য উৎপাদনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং অননুমোদিত রং ও রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযান চলাকালে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।
ভোক্তাদের প্রতি অধিদপ্তরের পরামর্শ
পণ্যের কৃত্রিম সংকট এড়াতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করে পণ্য কেনা এবং প্রতিটি কেনাকাটার বিপরীতে বিক্রেতার কাছ থেকে ভাউচার সংগ্রহের জন্য ভোক্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।
পণ্য কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

