এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় পৃথক দুটি অভিযানে ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একাধিক মামলার পলাতক আসামি বাদশা মিয়া ওরফে ‘ককটেল বাদশা’ এবং যুবদল নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাহুল কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে গাজীপুর ও ঢাকা মহানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক ৪টার দিকে গাজীপুর জেলার আশুলিয়া থানার কাশিমপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন বগুড়া জেলা ডিবির এসআই ফজলুল হক ও এসআই ইফ্তেখাইরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্যসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি বাদশা মিয়া ওরফে ককটেল বাদশাকে (৪৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাবতলী উপজেলার মাঝবাড়ী গ্রামের মৃত লইমুদ্দিনের ছেলে।
পুলিশের দাবি, গত ২২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাদশা মিয়া সহযোগীদের নিয়ে গাবতলী উপজেলার আকন্দপাড়া গ্রামের ভক্ত রাম বিশ্বাসের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে মারধর ও জিম্মি করা হয়। পরে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাড়ির সিন্দুক থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ছাড়া গত বছরের ২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাবতলী উপজেলার ছোট ইটালী এলাকায় মাদক কারবারি নাসিমা খাতুনের বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর বাদশা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৪৫টি ককটেল ও ককটেল তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, বাদশা এর আগে গাজীপুর মহানগর এলাকা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটি তদন্তাধীন এবং কয়েকটি বিচারাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর বাদশা মিয়াকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁর চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে, একই রাতে ডিবি পুলিশের অপর একটি দল রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মহানগরীর কামরাঙ্গীরচর থানার মুন্সিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাহুল কবিরাজকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। তিনি কাহালু উপজেলার পাল্লাপাড়া গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে এবং বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর কাহালু উপজেলার মাগুরা গ্রামে একটি পুকুরের মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বাক্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাহুল কবিরাজসহ কয়েকজন যুবদল নেতা রাহুলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে রাহুল কবিরাজ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে।
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রাহুল কবিরাজকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনায় জড়িত অন্যদের পরিচয় এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলার বাইরে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের মাধ্যমে মামলার অন্যান্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

