https://pranershohorbd.net/wp-content/uploads/2022/09/logo-ps-1.png
ঢাকাWednesday , 24 June 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া বার্তা
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কৃষি বার্তা
  11. খাগড়াছড়ি
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. খোলা কলাম
  15. গনমাধ্যাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কঠিন সময়ে ছিলেন সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম

admin
June 24, 2026 6:41 pm
Link Copied!

দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:

কঠিন সময়ে ছিলেন সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম। মাজারের হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে ছিলেন হার্ডলাইনে। নানামুখী চাপেও ছিলেন পর্যুদস্ত। প্রত্যাহারের পত্র আসার পর তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য ‘যৌক্তিক’ সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সময় দেয়া হয়নি তাকে। সার্কিট হাউজে ডেকে নিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। বলা হয়েছিল রাতেই সিলেট থেকে চলে যেতে।

কিন্তু সময় নিয়ে একদিন পর মঙ্গলবার তিনি সিলেট ছাড়লেন। যাওয়ার সময় নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখে গেলেন- বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য। রোববার দুপুরে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের পত্র সিলেটে এসে পৌঁছায়। তখন তিনি সিলেটে অফিসেই ছিলেন। বিকালের মধ্যে চাউর হয় প্রত্যাহারের খবরটি। সিলেট জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- এমন খবরের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ডিসি সারওয়ার আলম। হঠাৎ প্রত্যাহারে তিনি হতাশ হন।

সন্ধ্যায় এ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। সেখানে কিছুটা আবেগ আপ্লুত ছিলেন তিনি। বিকাল থেকেই অফিসের সামনে তার পক্ষে মিছিল। ডিসি’র প্রত্যাহার দাবিতে অনেকেই মাঠে। পরিস্থিতি সরব। তারা জানিয়েছেন- প্রত্যাহারের নির্দেশ এলে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বেশি সময় দেয়া হয় না। এ কারণে পরদিন রোববার সকাল থেকেই শুরু হয় বিদায়ের অপেক্ষা। তবে জেলা প্রশাসকের কর্মকাণ্ডে সেটি পরিলক্ষিত হয়নি। তার অফিসের সামনে বিক্ষোভ।

তাকে চায় সিলেটের মানুষ। ফলে দায়িত্ব হস্তান্তরে কিছুটা সময় নিতে চান তিনি। ধীরে, সুস্থে ছাড়তে চান সিলেট। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- যেহেতু প্রত্যাহার করা হয়েছে তাকে দ্রুতই সিলেট ছাড়ার নির্দেশ আসে ঢাকা থেকে। কালক্ষেপণ করতে চাননি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মাজার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে- এমন আশঙ্কাও ছিল। ফলে সোমবার দুপুরের মধ্যেই তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য তাগিদ দেয়া হচ্ছিল। ওইদিন বেলা ১টায় অফিস ছাড়লেন ডিসি সারওয়ার। মাজারে গিয়ে দানবাক্স খুললেন।

টাকা গণনা শুরু করলেন। বিষয়টি ভাইরাল। গোটা দেশের মানুষের নজর মাজারের দিকে। ডিসি তখন বসে আছেন মাদ্রাসার অফিস কক্ষে। ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ঢাকা ও সিলেটের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার তাকে ফোন দিচ্ছিলেন। রিসিভ হচ্ছিলো না। নদীর ওপার থেকে সার্কিট হাউজে আসেন বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমান। লোক মারফতে সার্কিট হাউজে ডেকে পাঠানো হয় ডিসি সারওয়ার আলমকে। গণনা শেষ করতে পারেননি। খবর পেয়ে সার্কিট হাউজের পথ ধরেন। ততক্ষণে সার্কিট হাউজে সব প্রস্তুত। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। ডিসি চেয়েছিলেন নিজের মনোনীত এক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। সেটিও হয়নি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

তাই হলো। দায়িত্ব হস্তান্তর করতে করতে রাত ১০টা বেজে গেল। ততক্ষণে নতুন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নিলেন। সরিয়ে নেয়া হলো ডিসি হিসেবে সারওয়ার আলমের নিরাপত্তার দায়িত্ব। রাতে সিলেট ছাড়েননি ডিসি সারওয়ার আলম। গতকাল দুপুরে তিনি বিমানযোগে সিলেট ত্যাগ করেন। তবে সকালে তিনি সার্কিট হাউজে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। দিয়েছেন কিছু নির্দেশনাও।

সিলেটের শাহজালাল (র.) মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসেবে বিষয়টি এতদিন অন্ধকারেই ছিল। দানের মাধ্যমে কতো টাকা আয় হয় সেটি কেউ জানতেন না। হিসাব দেখিয়ে গেলেন ডিসি সারওয়ার। গত বৃহস্পতিবার দানবাক্সে দেয়া হয় সিলগালা। সোমবার দুপুরের পর সেটি খোলা হয়। মাত্র তিনদিন সময়। এই সময়ে উঠেছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

এদিকে, সদ্য প্রত্যাহার হওয়া আলোচিত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে ছয় লাখ ২৫ হাজার টাকার বেশি জরিমানা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি সুদমুক্ত গাড়ি ঋণের ‘গ’ ফরম (বন্ধকী ফরম) সময়মতো স্বাক্ষর না করায় এ জরিমানা ধার্য করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখার উপসচিব মঈন উদ্দিন ইকবাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে (স্মারক নং ০৫.০০.০০০০.০০০.১২৪.৮৯.০০০২.২৩.২৬৮) বলা হয়, ২০২০ সালের সুদমুক্ত ঋণ ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা অনুযায়ী সারওয়ার আলমকে ৩০ লাখ টাকার অগ্রিম মঞ্জুর করা হয়েছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের ৯০ দিনের মধ্যে ‘গ’ ফরম স্বাক্ষর না করায় ১৫ শতাংশ হারে জরিমানা দিতে হয়েছে তাকে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ৯০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল ‘গ’ ফরম স্বাক্ষর করা হয়। এ সময়কালে ৫০৭ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ হারে মোট ৬ লাখ ২৫ হাজার ৬৮ টাকা ৪৯ পয়সা জরিমানা করা হয়েছে। টাকাটি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।

তবে জরিমানার টাকা তিনি পরিশোধ করেছেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

আমাদের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল"প্রাণের শহর বিডি'র জন্য সারাদেশব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন অথবা সিভি পাঠিয়ে দিন। সিভি পাঠানোর ইমেইল Mintuislam59@gmail.com, আমাদের দৈনিক প্রাণের শহর বিডি অনলাইনে সারাদেশের পাঠকরা নিউজ পাঠাতে পারেন" নিউজ পাঠানোর ইমেইল pranershohorbd@gmail.com এ। আমাদের খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।