দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতির দপ্তরে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। জাতিসংঘের সভাপতির দপ্তরের টিমে তাঁর এই দায়িত্ব আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের একজন আইন পেশাজীবীর সম্পৃক্ততাকে সামনে এনেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি ২ জুন ২০২৬ নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সভাপতির দপ্তরে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে জাইমা রহমানের দায়িত্বের মধ্যে আইনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা অন্তর্ভুক্ত। তাঁর পেশাগত পরিচয়ে আইন ও নীতিবিষয়ক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে আইন পেশায় কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। বাংলাদেশেও আইন পেশায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা সুরভির বোর্ডের সঙ্গে তিনি যুক্ত রয়েছেন।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে। এবারের অধিবেশনে শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় আস্থা পুনর্গঠনের মতো বৈশ্বিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
সভাপতির দপ্তরে বিভিন্ন দায়িত্বে মোট ৪০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনীতিক আব্দুল আলিম ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যরা প্রশাসন, তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৌশলগত পূর্বাভাস, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন।
জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা। তবে জাতিসংঘের দপ্তরভিত্তিক পেশাগত পরিচয়ে তাঁর আইন ও নীতিবিষয়ক যোগ্যতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতির দপ্তরে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে জাইমা রহমানের দায়িত্ব পালন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পেশাজীবীদের অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

