দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং কাচ্চি ভাইয়ের উদ্যোগে খাদ্য নিরাপদতা ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা, পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা, পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মো. মাসুম আরেফিনসহ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএসটিআই, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং কাচ্চি ভাইয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
কর্মশালার শুরুতে পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা আয়োজনের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ীদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণে উৎসাহিত করাই কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য।
ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, জরিমানা করা নয়, ব্যবসায়ীদের আইন মেনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশনে উদ্বুদ্ধ করাই মূল লক্ষ্য। তিনি কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদাভাবে সংরক্ষণ, খাদ্য উপকরণ সঠিকভাবে সংরক্ষণ, অননুমোদিত রং ও উপকরণ ব্যবহার না করা এবং ধৌতকাজে প্রবাহমান পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্যকর্মীদের গ্লাভস ব্যবহার, অনুমোদিত রং ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
কর্মশালায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ বিষয়ে একটি উপস্থাপনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তাহমিনা বেগম।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক মোছা. শাহানাজ পারভীন নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন। এতে খাদ্য নিরাপদতা, অনিরাপদ খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব, খাদ্য দূষণের কারণ, খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক রেবেকা সুলতানা ‘মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে করণীয় ও বিএসটিআইয়ের ভূমিকা’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন। এতে বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকা, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, পণ্যের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ মান অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদনের বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
মুক্ত আলোচনায় কাচ্চি ভাইয়ের প্রতিনিধিরা নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা, খাদ্যোপযোগী রং, লাইসেন্স ও মানদণ্ড অনুসরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
অধিদপ্তরের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মো. মাসুম আরেফিন বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। তিনি প্রতিটি আউটলেটে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ, ভোক্তা সন্তুষ্টি নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের সঙ্গে ভালো আচরণের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তার অধিকার সুরক্ষিত করা। তিনি বলেন, ‘দিনশেষে আমরা সবাই ভোক্তা। তাই ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, খাদ্য সরবরাহকারীদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন করতে হবে এবং খাদ্যে ব্যবহৃত উপাদানের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কাচ্চি ভাইয়ের প্রতিটি আউটলেটে কর্মশালায় দেওয়া নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
আইন ও নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করে ভালো ব্যবসায়িক চর্চা বজায় রাখলে প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান মহাপরিচালক। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের কথা জানান তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা বলেন, খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশনের প্রতিটি পর্যায়ে নির্ধারিত মানদণ্ড, অভিন্ন পরিচালন পদ্ধতি ও খাদ্যের উৎস শনাক্তযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি কাচ্চি ভাইয়ের প্রতিনিধিদের জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নিয়ম ও নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন, সব আউটলেটে অভিন্ন মানদণ্ড বজায় রাখা, নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য নিরাপত্তা সনদ গ্রহণের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে খাদ্য উপকরণ ও পণ্যের উৎস শনাক্তযোগ্যতার তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

