এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়লা-আবর্জনা, আগাছা, লতা-পাতা ও ঝোপঝাড়ে ভরে থাকলেও বছরের অধিকাংশ সময় পানিশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকে বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত একটি পুকুর। পুকুরটিতে পানি না থাকলেও গোসলের সুবিধার্থে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে শানবাঁধানো ঘাটলা। অথচ পুকুরে স্থায়ীভাবে পানি সংরক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও অচলাবস্থায় পড়ে থাকা এই পুকুরের উন্নয়ন কিংবা পানি সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের বর্তমানে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকে ধুনট উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠার সময় সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সম্ভাব্য পানি সংকট মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে পুকুরটি খনন করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুকুরটি তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। বর্তমানে বছরের অধিকাংশ সময়ই এটি শুকনো পড়ে থাকে এবং আগাছা ও ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত অবস্থায় থাকে।
সূত্র আরও জানায়, ২০২১ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দে পুকুরপাড়ের কিছু উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেন। পরে তিনি বদলি হলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান। তার সময়েই শুকনো পুকুরের পাশে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি শানবাঁধানো ঘাটলা নির্মাণ করা হয়। তবে পুকুরে পানি ধরে রাখার জন্য কোনো স্থায়ী বা টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে একটি পুকুর বছরের পর বছর পানিশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকা প্রশাসনের উদাসীনতারই প্রতিফলন। জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং পরিবেশগত সংকটের এই সময়ে সরকারি জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি। পুকুরটি পুনঃখনন এবং পানি সংরক্ষণের উপযোগী করে গড়ে তোলা হলে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যও বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো কার্যকর ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় উন্নয়ন ব্যয়ের সুফল জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “পুকুরটি নিয়ে বর্তমানে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কারিগরি ও ভূ-তাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেখানে পানি ধারণের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও তখন যাচাই করা হবে।”

