শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে শরিফ শেখ (৩৪) নামে এক মুরগির খামারিকে অপহরণ করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তাঁকে কয়েক দফায় শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিঠু হোসেন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ভুক্তভোগীর স্ত্রী সাদিয়া খাতুন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া চারমাথা এলাকা থেকে শরিফ শেখকে অপহরণ করা হয়। পরে তাঁকে রাসেল বাবু হিমুর অফিসে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁর কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁকে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
ভুক্তভোগী শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, হিমুর অফিস থেকে তাঁকে মিঠু হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে গিয়েও মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়।
শরিফ জানান, অপহরণের পাঁচ দিন পর বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুরের একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে তাঁকে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।
ভুক্তভোগী শরিফ শেখ বর্তমানে মুরগির খামারের ব্যবসা করেন। এর আগে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁর পরিবারের দাবি, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি বেশ কিছু টাকা পেয়েছিলেন। ওই টাকা দিয়ে বাড়িও নির্মাণ করেন। ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার বিষয়টি জেনেই তাঁকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ।
শরিফের বাবা হারেজ শেখ বলেন, ‘আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে কয়েক দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

