এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের নিমগাছী গ্রামের একটি বসতবাড়ির সামনের পাকা সড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিমগাছী ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ী কেরানীপাড়া এলাকার আব্দুল বাসেতের ছেলে সজল প্রাং (২৮) এবং আব্দুল বারীকের ছেলে নাজমুল প্রাং (৩৩)।
পুলিশ জানায়, ধুনট থানার জিডি নং-২০৩, তারিখ ৩ আগস্ট ২০২৬-এর ভিত্তিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদক উদ্ধার এবং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনকালে ধুনট থানার একটি টহল দল সোনাহাটা বাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের মাধ্যমে তারা জানতে পারে, নিমগাছী গ্রামের একটি বসতবাড়ির সামনের পাকা সড়কে কয়েকজন ব্যক্তি ইয়াবা কেনাবেচায় লিপ্ত রয়েছে।
সংবাদের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে দেহ তল্লাশি চালিয়ে একজনের কাছ থেকে ৮ পিস এবং অপরজনের কাছ থেকে ৭ পিসসহ মোট ১৫ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সরকারি ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেটগুলোর মোট ওজন ১ দশমিক ৫ গ্রাম পাওয়া যায়।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলেই আইনানুগভাবে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ ও সিলগালা করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ২ পিস ইয়াবা পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ১৩ পিস বিচারিক কার্যক্রমের জন্য আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ধুনট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ধুনট থানার মামলা নং-৩, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৬ (জি.আর. নং-১৪০) হিসেবে রুজু হয়েছে এবং এর তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার সকালে তাদের বগুড়ার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

