এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনটে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ফজলে খোদা বাবলু (৫১) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নে নিজ বাড়ির বাইরের আঙিনা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ফজলে খোদা বাবলু নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ধুনট থানার এফআইআর নং-১৮, তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ এবং জিআর নং-১৮ মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৮০, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ৩, ৪, ৫ ও ৬ ধারায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরনশাহী এলাকায় বিএনপির একটি দলীয় কার্যালয়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ কর্মীসভা চলছিল। এ সময় ফজলে খোদা বাবলুসহ এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠি, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কয়েকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে কার্যালয়ে থাকা নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কয়েকজনকে লোহার রড, সাবল, হকিস্টিক ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করে আহত করার অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া হামলাকারীরা কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং শতাধিক চেয়ারসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা একটি মনিটর ও একটি বক্স নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আমিনুল ইসলাম আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিসহ এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের পারস্পরিক যোগসাজশের বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
পুলিশের সিডিএমএস ও থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় ফজলে খোদা বাবলুর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলার তথ্য পাওয়ার কথা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের একটি মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৮৫, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় এবং ২০২২ সালের আরেকটি মামলায় ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ১১৪ ধারায় মামলা থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ফজলে খোদা বাবলুকে সোমবার সকালে বগুড়া আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

