শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের আমিনপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে ঝড়ে হেলে পড়া একটি বিশাল আকাশমনি গাছ দ্রুত অপসারণ না করায় একটি পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। গত ২৭ মে ভোররাতের ঝড়ে গাছটি প্রতিবেশীর বসতবাড়ির ওপর ভেঙে পড়লেও কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও তা সরানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দীন প্রামাণিকের ছেলে আবু সাইদ (৪০)-এর একটি বড় আকাশমনি গাছ ঝড়ে ভেঙে প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল মতিন (৪২)-এর বসতবাড়ির ওপর গিয়ে পড়ে। এতে ঘরের টিনের চালা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এতে তাদের প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে গাছটি এখনো বিপজ্জনকভাবে ঘরের ওপর ঝুলে রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন বলেন, “গাছটি ঘরের ওপর পড়ার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। কয়েকদিন ধরে বারবার অনুরোধ করলেও সাইদ গাছটি সরানোর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বরং বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করেন এবং নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেন।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে আবু সাইদ বলেন, “গাছ কাটা সহজ কাজ নয়। ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিক সংকট থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে গাছটি কেটে অপসারণ করা হবে।”
এদিকে, গাছ অপসারণে বিলম্বের কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে—এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ রানা বলেন, “ঘটনার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে আবু সাইদকে দ্রুত গাছ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। ঝুলন্ত গাছটির কারণে আব্দুল মতিনের পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।”
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত গাছটি অপসারণ এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

