এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া শহরে একটি পথকুকুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. স্বপন (৪৫)কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক বার্মিজ টিপ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে আরও একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া), বগুড়া সদর শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন (৩১) গত সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) দুপুরে খবর পান যে, বগুড়া মহানগরের কানছগাড়ী এলাকায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে একটি কুকুর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করেন।
পরে আহত প্রাণীটিকে দ্রুত জলেশ্বরীতলার ডা. আকাশ পেটস কনসাল্টেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, বগুড়া সদরকে জানানো হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. লুৎফর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম এবং ডা. আকাশের সমন্বয়ে একটি চিকিৎসক দল আহত কুকুরটির চিকিৎসা প্রদান করেন।
ঘটনার পর বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারেন, কানছগাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. স্বপন কুকুরটির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৪২৯ ধারায় মামলা (নং-৮৯, তারিখ: ২৯ জুন ২০২৬) রুজু হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বগুড়া সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে বকসিবাজারের ১ নম্বর (মেইন) গেটের সামনে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে একটি অত্যাধুনিক বার্মিজ টিপ চাকু উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ১৮৭৮ সালের Arms Act-এর ১৯(এফ) ধারায় বগুড়া সদর থানায় পৃথক একটি অস্ত্র মামলা (নং-৯০, তারিখ: ৩০ জুন ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার এ ঘটনায় স্থানীয় প্রাণীপ্রেমী ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি প্রাণী নির্যাতন প্রতিরোধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

