এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলায় চাঞ্চল্যকর শাকিল (২৪) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. হানিফ মিয়া (১৭)-কে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১২, সিপিএসসি বগুড়া ও র্যাব-১১, সিপিএসসি নরসিংদীর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, পূর্ববিরোধের জেরে গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে বগুড়ার সোনাতলা থানার দক্ষিণ বয়ড়া এলাকায় শাকিলের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি হানিফ মিয়া মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে শাকিলের মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় গুরুতর আহত শাকিলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে শাকিলের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত শাকিলের ভাই বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় হত্যা মামলা করেন। ৩১ আগস্ট দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৯। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
র্যাব-১২-এর কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর হানিফ গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, তিনি নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানার গ্রামীণ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এলাকায় অবস্থান করছেন।
এরপর তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১২, সিপিএসসি বগুড়া ও র্যাব-১১, সিপিএসসি নরসিংদীর সমন্বয়ে একটি যৌথ আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে শিবপুর মডেল থানাধীন গ্রামীণ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালায়। অভিযানে শাকিল হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি হানিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হানিফ মিয়া বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দক্ষিণ বয়ড়া গ্রামের মৃত রাশেদ মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত হানিফকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়ার সোনাতলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ দমনে এবং চাঞ্চল্যকর মামলার পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে র্যাবের তৎপরতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

