শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়া, ২৪ আগস্ট ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়ায় তৃতীয় ধাপে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একাডেমির নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় আরডিএ, বগুড়ার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে একাডেমির ক্যাম্পাস ও প্রদর্শনী খামারের বিভিন্ন স্থানে ৪০০টি নিমের চারা রোপণ করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (আরডিএ) মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। তিনি নিজ হাতে নিমের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় একাডেমির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নেন।
প্রধান অতিথি বলেন, বৃক্ষ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না; বায়ু বিশুদ্ধকরণ, কার্বন শোষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, নিম পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি বৃক্ষ। নিমের পাতা, ছাল, বীজ ও তেল বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবেও নিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৃষিতে পরিবেশবান্ধব বালাই ব্যবস্থাপনায় নিমজাত উপাদানের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
নিমের বীজ ও নিমতেল ব্যবহার করে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হওয়ায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি উন্নয়নেও এ গাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি নিমগাছ বায়ুর মান উন্নয়ন, ছায়া প্রদান এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে পল্লী ও কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গবেষণা, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একাডেমির একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে অব্যাহত রাখা হয়েছে।

