স্টাফ রিপোর্টার:
বসবাস ছাপড়ায় বসবাসকারী বিধবা সুফিয়া বেগমের জীবনসংগ্রামের করুণ চিত্র উঠে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক এই প্রতিবেদনের পর অনেকেই সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে সহায়তার হাত বাড়ানোরও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারি কোনো সংস্থা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের সহায়তা বা খোঁজ নেওয়া হয়নি।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের কালিগঞ্জপাড়া গ্রামের এই অসহায় নারী এখনো প্রতিদিন ভোরে শাক তুলেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। বৃষ্টির দিনে কষ্ট আরও বেড়ে যায়। বসবাসের অনুপযোগী ছাপড়া ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। নেই রান্নার নিরাপদ ব্যবস্থা, নেই শৌচাগার।
সুফিয়া বেগম বলেন, “সবাই বলছে আমার খবর পড়েছে, দোয়া করছে, কিন্তু কেউ আসছে না। ঘর চাইছি অনেক বছর, পাইনি। এখন শুধু অপেক্ষা করি কেউ আসবে কিনা।”
তিনি আরও জানান, প্রতিবেদন প্রকাশের পর কয়েকজন ভালো মানুষ শাক কিনতে এসে সান্ত্বনা দিয়েছেন, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় জীবনের অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
স্থানীয় একজন শিক্ষক বলেন, “এমন একজন সংগ্রামী নারীকে উপেক্ষা করা মানবিক ব্যর্থতা। তার জন্য একটি ঘর ও ভাতা বরাদ্দ হওয়া উচিত।”
এখন প্রয়োজন প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ। স্থানীয় সরকার, সমাজসেবা অধিদপ্তর বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সুফিয়া বেগমের জীবন একটু হলেও স্বস্তিময় হতে পারে। শুধু সংবাদে নয়, বাস্তব সহায়তায় বদলে যাক এই বিধবা নারীর দুঃখের অধ্যায়।

