এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সিএনজি চালক মিলন মিয়া হত্যা মামলায় তদন্তে শনাক্ত দুই পলাতক আসামিকে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্প। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. আবুল কাশেম প্রামাণিক (৫০) ও মো. রেজাউল করিম ওরফে সাজু (৪৮)।
র্যাব-১২ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ী দ্বিতীয় বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর পলাতক আসামি মো. আবুল কাশেম প্রামাণিককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা পশ্চিমপাড়া এলাকার আফসার আলী প্রামাণিকের ছেলে।
এরপর মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে শাজাহানপুর থানাধীন ফুলদিঘী মধ্যপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে একই মামলার ২ নম্বর পলাতক আসামি মো. রেজাউল করিম ওরফে সাজুকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ফুলদিঘী এলাকার নজমুল হোসেনের ছেলে।
র্যাব জানায়, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-০৩, তারিখ ৭ আগস্ট ২০২৬; দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাড়াশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিহত মিলন মিয়া গত ২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে জামিলনগর (জিন্নাহ মোড়) এলাকার ভাড়া বাসা থেকে প্রতিদিনের মতো সিএনজি নিয়ে বগুড়া চারমাথা সিএনজি স্ট্যান্ডের উদ্দেশে বের হন। কিন্তু এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে গত ৭ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাড়াশ থানাধীন রানীদিঘী মৌজার তাড়াশ-রাণীরহাট সড়কের পশ্চিম পাশে বেড়খালী এলাকায় একটি ডোবার পানিতে কচুরিপানার মধ্যে এক ব্যক্তির মরদেহ ভেসে রয়েছে। খবর পেয়ে নিহতের স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি তার স্বামী মিলন মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর আবুল কাশেম ও রেজাউল করিম ওরফে সাজুকে পলাতক আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার ফিরোজ আহমেদ জানান, অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
র্যাবের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

