এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসের এক হেলপারের স্কুলব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করে ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় মো. জিম বাবু (২২) নামে ওই বাসের হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক ওজন ২৬০ গ্রাম। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহারের অভিযোগে একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, বগুড়ার কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করেন। অভিযানটি পরিচালিত হয় বগুড়া সদর উপজেলার নওদাপাড়া এলাকায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পশ্চিম পাশে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে দিনাজপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী কোচে ইয়াবার চালান বহন করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে পরিদর্শক মো. সামসুল আলমের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮১৪২ নম্বরের কোচটির ইঞ্জিন কভারের ওপর বসে থাকা হেলপার জিম বাবুর স্কুলব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁর স্কুলব্যাগের ভেতরে পুরোনো কাপড়ের মধ্যে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো নীল রঙের জিপারযুক্ত ১৩টি পলিপ্যাকেট পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ২ হাজার ৬০০ পিস কমলা রঙের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল। ডিজিটাল কিচেন স্কেলে পরিমাপ করে এসব ট্যাবলেটের মোট ওজন ২৬০ গ্রাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া একটি সিমসহ আইটেল আইটি৫৬২১ মডেলের বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার জিম বাবু রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মদাস মিলনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. শামীম মিয়া এবং মায়ের নাম মোছা. ঝুমা বেগম। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ৯(গ) ও ২৬(১) ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. তাহিদুল আলম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
চালানের নেপথ্যে কারা, তদন্ত চলছে
উদ্ধার করা ইয়াবার চালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের অবৈধ পরিবহন ও বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

