এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার কাহালুতে দুই শিশুকে ধর্ষণের পৃথক অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. নুর ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুই মামলায় তাকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মারুফ হোসেন পৃথক রায়ে এ দণ্ড ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. নুর ইসলাম কাহালু থানার আড়োয়া (আবাসন) এলাকার মৃত হবিবর রহমানের ছেলে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ কাহালু থানায় ছয় বছর বয়সী শিশু মোছা. মরিয়ম খাতুন এবং সাত বছর বয়সী শিশু রিয়া মুনিকে ধর্ষণের অভিযোগে নুর ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।
আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক ছয় বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণের অভিযোগে নুর ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এ অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সাত বছর বয়সী রিয়া মুনিকে ধর্ষণের অভিযোগেও একই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, পৃথক দুই মামলায় দেওয়া সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে না। একটি সাজা ভোগের পর অপর সাজা কার্যকর হবে।
এ ছাড়া দুই মামলায় আরোপিত অর্থদণ্ডের অর্থ ভিকটিম দুই শিশুর মাকে প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে জারি করা সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত নুর ইসলামকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এমন মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

