এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জে আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টিতে একটি বড় গাছ উপড়ে হাফেজিয়া মাদ্রাসার টিনশেড ভবনের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ক্লাস চললেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছে সেখানে অধ্যয়নরত শিশুশিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ভবানীগঞ্জ নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মাদ্রাসা সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুরে হঠাৎ করে এলাকায় দমকা হাওয়াসহ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি বড় গাছের গোড়া নরম হয়ে গাছটি উপড়ে গিয়ে সরাসরি টিনশেড ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ভবনের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিকট শব্দে মাদ্রাসার ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গাছ পড়ে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য তারা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আপেল মাহমুদ। পরে তাঁর নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় যুবকেরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। তারা দ্রুত গাছ সরিয়ে মাদ্রাসার ভেতর থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আপেল মাহমুদ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও যুবকদের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সময়মতো উদ্যোগ নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঝড়ে গাছ পড়ে মাদ্রাসার দুটি পাকা টিনশেড কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে থাকা দুটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত মাদ্রাসা ভবন দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটির পাশে দাঁড়াতে বগুড়া জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা প্রশাসন এবং বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজাউল করিম বাদশার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ ও স্থাপনা চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

