এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার শ্যামগাঁতী গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে শালিস বৈঠকে যাওয়ার পথে এক বৃদ্ধের ওপর সশস্ত্র হামলা, মারধর এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলা দায়েরের পর বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের শ্যামগাঁতী গ্রামের বাসিন্দা মো. আকাশ হোসেনের বাবা মো. ফটু শেখ (৭০) গত ১ জুলাই ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে দীর্ঘদিনের জমিজমা ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নির্ধারিত একটি শালিস বৈঠকে যোগ দিতে বাড়ি থেকে রওনা হন। পথে গ্রামের মো. নবা শেখের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, কামরুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, সোহেল রানা ও সজীবসহ আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাঁশের লাঠি, লোহার রড, চাপাতি, হাসুয়া, বটি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ফটু শেখের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় কামরুল ইসলাম চাপাতি দিয়ে ফটু শেখের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। সোহেল রানা লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে সেটি তার বাম চোখের পাশের অংশে লেগে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। একই সময় সজীব বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করার পাশাপাশি আহত ফটু শেখের পরিহিত লুঙ্গির ডান পাশের টেমর থেকে ১০ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ফটু শেখের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় ফটু শেখকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শালিস বৈঠকে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত ফটু শেখের ছেলে মো. আকাশ হোসেন ধুনট থানায় কামরুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গত ৪ জুলাই প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে মামলার বাদী আকাশ হোসেন অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই এজাহারভুক্ত কয়েকজন আসামি ও তাদের স্বজনরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তার বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে ক্ষতিসাধনসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা তুলে নেওয়ার হুমকির বিষয়ে ধুনট থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। বাদী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ধুনট থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

