এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে বগুড়াকে কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বগুড়ায় বিমান ঘাঁটি স্থাপনের অনুমোদন ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি ড্রোন উৎপাদন কারখানাও বগুড়ায় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিমানবন্দর না থাকায় এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় বগুড়া বিমানবন্দরকে আধুনিকায়ন করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে নতুন যে যুদ্ধবিমান যুক্ত হবে, সেগুলো বগুড়ার নতুন বিমান ঘাঁটির আওতায় পরিচালিত হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্কের সহযোগিতায় একটি আধুনিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, উন্নয়নের বিষয়ে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করলেও রাজনৈতিক কারণে সেগুলো এমপিওভুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে সেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ চলছে।
তিনি জানান, বগুড়ায় নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। নামকরণ নিয়ে জনমত ও আলোচনা-সমালোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নের নাম জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বগুড়ার উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, সরকারি পদায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ঘাটতি ছিল। বর্তমানে সরকারের লক্ষ্য দেশের সব জেলার সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সেই নীতির আলোকে বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংলাপে পারিবারিক সদস্যদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ততা নিয়ে সমালোচনার বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, তার ছেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার স্বার্থে তাকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং তিনি পদত্যাগ করেন। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে তেমন গুরুত্ব পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে অনেক তরুণ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখন তারা যদি নিজ যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) এড়িয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে চান, তাহলে তাদের সহযোগিতা করা উচিত।
সংলাপে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

