এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা (আসক) ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং ন্যায্য বাজার লিমিটেডের উদ্যোগে বগুড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্যাকেজ বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের বোর্ডের বাজার বন্দরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আসক ফাউন্ডেশনের বগুড়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং সদর উপজেলা যুবদলের দাপ্তরিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য গোলাম রব্বানী জায়দার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ সুজন, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অতুল চন্দ্র দাস এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুর রহমান তৌহিদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি রবিউল হাসান দারুল, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রিয়েল সরকার, সদর উপজেলা আসকের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ও আসকের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান বাঁধন, শাখারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল প্রামানিক, যুব নেতা খাদেমুল ইসলাম, মাহিন ফ্যাশন হাউসের প্রোপ্রাইটর মিলন জায়দার, ডান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে গোলাম রব্বানী জায়দার বলেন, “গরিব ও অসহায় মানুষের আর্থিক কষ্টের কথা বিবেচনা করে আসক ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে ভর্তুকি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এ প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সংসারের ব্যয় কিছুটা কমানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারে প্রায় ১ হাজার টাকা মূল্যের পণ্যসমৃদ্ধ বিশেষ প্যাকেজটি সুবিধাভোগীদের কাছে মাত্র ৭৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে থাকছে -২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি আটা, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি ডিটারজেন্ট এবং এক বোতল লিকুইড ডিশওয়াশ।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত সুবিধাভোগীদের মধ্যে এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ওই কার্ডের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য ক্রয়, চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের মতে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা লাঘব করতেই এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাজারদরের তুলনায় কম মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো উপকৃত হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

