এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ স্বামীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং জমি-সম্পত্তি দখলে রাখার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোছাঃ উম্মে হাবিবা (হিরা) নামে এক নারী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাঁর অর্জিত সম্পদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আটকে রাখা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি। উম্মে হাবিবা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চাটখাইর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তাঁর স্বামী মোঃ আবুল কাশেম ফসলুল করিম (ফেরদৌস)।
লিখিত বক্তব্যে উম্মে হাবিবা দাবি করেন, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে বিয়ের পর থেকেই তিনি স্বামীর কাছ থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া, বিষাক্ত ওষুধ খাইয়ে গর্ভের সন্তানকে হত্যার চেষ্টা এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভুয়া তালাকের কাগজপত্র দেখানোর পরও সাবেক স্বামী বিভিন্ন সময়ে তাঁর নিজ বাড়িতে গিয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছেন। এসব ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর অর্জিত বাড়ি, জমি, গহনা, আসবাবপত্র, চেকবই, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং সন্তান ও তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী সাবেক স্বামী আটকে রেখেছেন। এসব মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফেরত পেতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে উম্মে হাবিবা বলেন, ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ এবং জমি বিক্রির কথা বলে তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, একপর্যায়ে ১১ লাখ, পরে ৭ লাখ এবং আরও ৪ লাখ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুত জমির দলিল বা মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি।
এ ছাড়া তাঁর কাছ থেকে নেওয়া জামানতের চেক এবং একটি মোটরসাইকেলও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
উম্মে হাবিবা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্নভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। বর্তমানে তাঁর নিজের ক্রয়কৃত বাড়ি, জমি, গহনা, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে সংঘটিত বলে দাবি করা নির্যাতন, অর্থনৈতিক প্রতারণা ও সম্পদ আটকে রাখার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আটকে রাখা মালামাল, অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আবুল কাশেম ফসলুল করিম (ফেরদৌস)-এর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

