বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার এরুলিয়ায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-মা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের সঙ্গে থাকা ৮ বছরের এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি রেখে পালিয়ে যায় চালক।
গত ৭ আগস্ট শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের বিমানবন্দর গেট সংলগ্ন বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—আটাপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকার বাবুল হাসান (৫৩) ও তার স্ত্রী জেসমিন আরা বেগম (৪৩)। তাদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা ৮ বছরের শিশু জুলকার নাইন গুরুতর আহত হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাবুল হাসান তার স্ত্রী জেসমিন আরা বেগম ও ভাতিজা জুলকার নাইনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কাহালুর উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তারা বিমানবন্দর গেট সংলগ্ন মহাসড়কে পৌঁছালে নওগাঁ থেকে বগুড়া চারমাথাগামী একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-১৬৪৪) দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে এসে মোটরসাইকেলটিকে সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। বাবুল হাসান ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা জেসমিন আরা বেগম ও শিশু জুলকার নাইনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন আরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত জুলকার নাইনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর চালক প্রাইভেটকারটি রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি জব্দ করে। পরে হাসপাতালে নিহত বাবা-মায়ের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাইভেটকারের অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দুইজনের মৃত্যুর অভিযোগে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী নাবিউল করিম মুজাহিদ জানান, ঘটনার পর নিহত বাবা-মায়ের দাফন সম্পন্ন করে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে থানায় মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

