দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার মিয়ানমারে জাতীয় রিকনসিলিয়েশন বিষয়ক জাপানের বিশেষ দূত এবং নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া মিয়ানমারে শান্তি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ সোমবার ঢাকার ইউনূস সেন্টারে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন চেয়ারের সেক্রেটারি শোটা নাকায়াসু; আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার ফ্রাঞ্জ কেন কুরিবায়াশি; আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তোরু কিমুরা; দোভাষী মিস কিমিয়ো মাচিদা; সেন্টার ফর মেডিয়েশন সাপোর্টের পরিচালক ড. আকিকো হোরিবা; সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং রিকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে; এবং ড. শিহো তানাকা।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব মো. আশরাফুল হাসান এবং ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে এবং বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রূপান্তর, রোহিঙ্গা মানবিক সংকট ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস সফলভাবে তাঁর মেয়াদ সম্পন্ন করায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাসাকাওয়া।
তিনি জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ইউনূসের দর্শন ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, সম্পদের কেন্দ্রীকরণ একটি বৈশ্বিক সমস্যা যা কোনো একক দেশ সমাধান করতে পারে না। তাই এই সমস্যা মোকাবেলায় দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগের ঘটনাবলী স্মরণ করে উল্লেখ করেন যে, জুলাই আন্দোলনে বহু তরুণ তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং এই আত্মত্যাগ যেন তরুণ প্রজন্মের জন্য অর্থবহ সুযোগে পরিণত হয় তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
আলোচনায় প্রধানত রোহিঙ্গা মানবিক সংকট এবং মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়। মিয়ানমারে সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং সেখানে মানবিক ও শান্তি-সম্পর্কিত কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি শান্তি ও সংলাপ প্রসারের প্রচেষ্টায় অবদান রাখা অব্যাহত রাখতে পারবেন।
অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সহায়তা প্রদানের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং সতর্ক করে বলেছেন যে, কোনো সুস্পষ্ট পরিচয় বা ভবিষ্যৎ ছাড়া বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম ক্রমশ হতাশ ও ক্রুদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।
সাসাকাওয়া বলেন, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে কাজ করবেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংযোগে এর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের উপকূলীয় অবস্থানের কৌশলগত গুরুত্ব এবং গভীর সমুদ্রবন্দর সুবিধার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আধুনিক বন্দর অবকাঠামো ও কার্যকর আঞ্চলিক সংযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক প্রবেশদ্বার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিস্তৃত অঞ্চলের সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের সংযোগ আরও জোরদার করতে পারে।
আলোচনায় সামাজিক ব্যবসা ও উদ্যোক্তা ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং শুধু চাকরিপ্রার্থী তৈরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা তৈরিতে শিক্ষাব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম এবং তরুণদের উদ্যোক্তা এবং চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তোলার উপযোগী নতুন শিক্ষাপদ্ধতি গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা অব্যাহত ও আরও জোরদার করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে সামাজিক ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার মতো ক্ষেত্রগুলোতে বাস্তব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
#SocialBusiness #WorldofThreeZeros #japan #YunusCentre #MuhammadYunus #Bangladesh

