দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬:ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IsDB) গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের বৃহস্পতিবার ঢাকার ইউনূস সেন্টারে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
সাক্ষাৎকালে ড. মুহাম্মদ আল জাসের বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে IsDB-এর সদস্য দেশগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনার কথা জানান। অধ্যাপক ইউনূস এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যালোচনার জন্য IsDB-এর একটি দল পাঠানোর প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রামীণ ব্যাংকভিত্তিক কার্যক্রম, সামাজিক ব্যবসার ধারণা এবং তাঁর ‘থ্রি জিরো’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—ভিশন নিয়ে আলোচনা হয়।
অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে IsDB-এর চলমান অংশীদারিত্বের জন্য ড. আল জাসেরকে ধন্যবাদ জানান। একই দিনে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের সঙ্গে IsDB-এর সম্পর্কের গভীরতা এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে।
ড. আল জাসের অধ্যাপক ইউনূসের কাজের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ প্রচলিত অর্থে চাকরি খোঁজার পরিবর্তে নিজেদের উদ্যোগ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন কিছু করার দিকে আগ্রহী।
জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তরুণদের সৃজনশীলতাকে মানবিক সমস্যার সমাধান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজে লাগানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্রঋণের শুরু থেকেই মানুষের সৃজনশীলতা ও উদ্যোগকে কাজে লাগানোর এই ধারণা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবীন (Nabin) প্রোগ্রামের উদাহরণ তুলে ধরেন, যা পরবর্তীতে অন্যান্য স্থানেও সম্প্রসারিত হয়েছে।
বৈঠকে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিষ্ঠানটি তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়।
এ ছাড়া গ্রামীণ এলাকায় সামাজিক ব্যবসার আওতায় ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, চক্ষু চিকিৎসা, নার্সিং কলেজ ও হাসপাতাল চেইনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে IsDB প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, ডিজিটাল সক্ষমতার কারণে বর্তমান প্রজন্ম আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। তাদের মূল চ্যালেঞ্জ কেবল চাকরি পাওয়া নয়; বরং সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।
তরুণদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক সমস্যা সমাধান, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক ইউনূস।
বৈঠকে IsDB-এর পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ITFC-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদীব ইউসুফ আল আ’মা, IsDB-এর কান্ট্রি প্রোগ্রামস বিভাগের মহাপরিচালক আনাসে আসিমি এবং ITFC-এর ট্রেড ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবদিহামিদ আবু।
এ ছাড়া প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন মোহান্নাদ জাফর আলমাশহারাউই, আহমাদ শাওয়েশ, আবদিকাদির আবদি, আলী খান, নাসের ইয়াকুবু, মাহবুব রাব্বানি, আবদুল আলীম এইচ মোহাম্মদ ও ইফতেখার আলম।
অধ্যাপক ইউনূসের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান, ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং গ্রামীণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসমিনা রহমান।
বৈঠকটি দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নে উদ্ভাবনী, টেকসই ও জনকেন্দ্রিক অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে IsDB ও অধ্যাপক ইউনূসের অভিন্ন আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।

