দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও বক্তব্যের রুচিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবারে যে ভাষা বা শব্দ ব্যবহারে আমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না, তা জনপরিসরে ব্যবহার করারও কোনো কারণ নেই।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি ও কাদা-ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিভেদ ও সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সাম্প্রতিক তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাসকূপ অনুসন্ধান স্থবির থাকা, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি এবং দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে কারিগরি দুর্ঘটনার কারণে সংকট আরও জটিল হয়েছে।
সংকটকালীন সময়ে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তিকে পুঁজি করে উত্তেজনা সৃষ্টি করা সমীচীন নয়। লংমার্চের মাধ্যমে যদি সমস্যার সমাধান সম্ভব হতো, তাহলে সরকারই সবার আগে সেই উদ্যোগ নিত।
তিনি বিরোধী দলকে সংসদে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে সমস্যা ও সমাধান নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটানোর কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে পতিত সরকার খেলাপি ঋণের হার ১১ শতাংশ বলে দাবি করেছিল। তবে ২০২৫ সালের অডিটে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়া যায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে তা কমিয়ে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও গত পাঁচ মাসে সরকার রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ এবং অতীতের বিভেদ ভুলে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অতীতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও নারী শিক্ষার প্রসারের মতো বিভিন্ন সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলমান সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

