এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার আদমদীঘি থানায় দায়ের করা একটি অপহরণ মামলার ভিকটিমকে উদ্ধার এবং মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১২, ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানি (সিপিএসসি), বগুড়া।
র্যাব-১২ জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাস, মাদক, অপহরণ, হত্যা, ছিনতাই ও অন্যান্য চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি থানার এফআইআর নং-০৫, জিআর নং-১৩০, তারিখ ৪ জুলাই ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ভিকটিম (১৫) প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে আদমদীঘি হাসপাতালের সামনে থেকে সিএনজিযোগে জোরপূর্বক অপহরণের শিকার হয়। এ সময় তার শরীরে থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং ৬ আনা ওজনের কানের দুলও নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে ভিকটিমের বাবা আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১২-এর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. রাহুল হোসেন (২৪) গ্রেপ্তার এড়াতে বগুড়া জেলার কাহালু থানার ভোলতা খানপাড়া এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১২, সিপিএসসি বগুড়ার একটি আভিযানিক দল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর পলাতক আসামি মো. রাহুল হোসেন (২৪), পিতা- মো. শাহিনুর ইসলাম, সাং- ভোলতা, থানা- কাহালু, জেলা- বগুড়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে অপহৃত ভিকটিমকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় র্যাব সদস্যরা।
গ্রেপ্তারের পর উদ্ধারকৃত ভিকটিম এবং আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১২ জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণসহ যেকোনো অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

