দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের মেধা, দক্ষতা ও শিক্ষাভাবনা যাচাই করতে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের ধারণা নিতে এবং মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির উদ্যোগে ‘প্রতিভা অন্বেষণ পরীক্ষা’ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে একযোগে এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, শিবগঞ্জ সরকারি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং চৌধুরী আদর্শ মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় শিবগঞ্জ-মোকামতলা এলাকার প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী ও ৬০০ শিক্ষক অংশ নেন। জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রণীত প্রশ্নপত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে পরীক্ষায় অংশ নেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শ্রেণির প্রথম পাঁচ রোলের শিক্ষার্থীদের এ পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ও দক্ষ শিক্ষকদের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষকদের পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়।
আয়োজকদের মতে, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং একটি এলাকার মেধাবী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতাকে বৃহত্তর পরিসরে কাজে লাগানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি বিদ্যালয় ও কলেজের মেধাবীদের র্যাংকিং করার উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদেরও এতে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে তাদের শিক্ষা ও দেশ নিয়ে ভাবনা জানা যায় এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।
তিনি জানান, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম সারির ৪০০ শিক্ষার্থী ও ২০০ শিক্ষককে নিয়ে শিগগির একটি বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতা, নতুন শিক্ষাক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মেধাবী শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রস্তাবগুলো বগুড়া-২ আসনে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে পাঠানো হবে।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। গাংনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, শিক্ষকদের জন্য এমন মেধা যাচাইয়ের আয়োজন বিরল। এটি শিক্ষকদের নিজেদের জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহিত করবে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশাদ রহমান অনিক জানায়, এ ধরনের প্রতিযোগিতা পড়াশোনার প্রতি নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণত মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে মেধা যাচাই এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন চিন্তা ও সমাধানের পথ খোঁজার উদ্যোগটি ব্যতিক্রমী। মাঠপর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শিক্ষা পরিকল্পনায় যুক্ত করার এ উদ্যোগ সফল হলে তা অন্য এলাকাতেও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

