নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১৫ দিনের মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগ মিয়া জুলহাস নিহত তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তারের বাসায় গিয়ে জানান, তানিয়া গার্মেন্টসে গেছেন। এ সময় তিনি তানিয়ার বাসার চাবি নাছিমা আক্তারের কাছে রেখে দুপুর ১টার দিকে তানিয়ার কাছে পৌঁছে দিতে বলেন।
পরে নাছিমা আক্তার তানিয়ার কর্মস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, ওই দিন তানিয়া গার্মেন্টসে যাননি। এরপর তিনি তানিয়ার বাসায় গিয়ে দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। বাড়িওয়ালার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে তানিয়ার মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় নিহতের খালা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গত ১০ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি নম্বর-২৬; ধারা ৩০২/৩৪, পেনাল কোড। পরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটে ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকার চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাস থেকে সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক অভাব-অনটনকে কেন্দ্র করে তানিয়ার সঙ্গে সোহাগের কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সোহাগ তানিয়ার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে মরদেহ ঘরে রেখে তানিয়ার নাকে থাকা স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন। এরপর ঘরে তালা দিয়ে চাবিটি তানিয়ার খালার কাছে রেখে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
গ্রেফতারের পর আসামি জুলহাস আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

