https://pranershohorbd.net/wp-content/uploads/2022/09/logo-ps-1.png
ঢাকাWednesday , 12 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া বার্তা
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি বার্তা
  12. খাগড়াছড়ি
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. খোলা কলাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, আহত ৫৭০

admin
August 12, 2026 12:08 am
Link Copied!

দৈনিক প্রাণের শহর বিডি/আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কলম্বিয়ায় আঘাত হানা শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫৭০ জন। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়েছে বহু ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত স্থাপনা। বন্ধ রয়েছে কয়েকটি বিমানবন্দর। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে ভারী যন্ত্রপাতির সংকটও দেখা দিয়েছে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলম্বিয়ায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে হতাহতের তথ্য জানিয়েছে কলম্বিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিজ। ভূমিকম্পের পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে বৈঠকেও অংশ নেয় সংগঠনটি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু পেরেইরা শহরেই ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশটির পাঁচটি রাজধানী শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ধসে পড়েছে অন্তত ৮৬টি ভবন এবং সাতটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেস শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। রাজধানী বোগোতা থেকে স্থানটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তল্লাশি চালাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবকেরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে কংক্রিটের বড় টুকরো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
ক্যালিতে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং প্রায় ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

ক্যালির ৬৪ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক হোর্হে মোনকায়ো এপিকে বলেন, ভবনগুলো ধসে পড়ার সময় পুরো শহরজুড়ে ধুলার মেঘ উঠতে দেখেছেন তিনি। তার ভাষায়, এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা তার আগে কখনও হয়নি।
ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেওয়া হুয়ান কার্লোস অসোরিও কারাকোল টেলিভিশনকে বলেন, একটি ভবন ধসে পড়ার শব্দ বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল। তিনি জানান, প্রতিবেশীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। তবে আটকে পড়াদের উদ্ধারে আরও ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।

নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা শপথ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভূমিকম্প আঘাত হানায় এটি তার সরকারের সামনে প্রথম বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ত্রাণ পৌঁছে দিতে জাতীয় সরকার তার সব সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক হিসাবে প্রেসিডেন্ট ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে ১৩২ জন নিহত ও ৫৭০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কফি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রিসারালদা এলাকাতেই অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। ওই অঞ্চলের রাজধানী পেরেইরায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভায়া দেল কাউকা অঞ্চলে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলেই ক্যালি শহর অবস্থিত। নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরা। এসব বিমানবন্দরের অবকাঠামো নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করছেন প্রকৌশলীরা।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণ ‘রিং অব ফায়ার’-এর প্রভাবে কলম্বিয়ায় প্রায়ই ছোট মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

স্থানীয়ভাবে এসব কম্পনকে ‘তেমব্লোরেস’ বলা হয়। তবে দেশটিতে ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিরল।
এর আগে ১৯৯৯ সালে আরমেনিয়া শহরের কাছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি একবিংশ শতাব্দীতে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

আমাদের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল"প্রাণের শহর বিডি'র জন্য সারাদেশব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন অথবা সিভি পাঠিয়ে দিন। সিভি পাঠানোর ইমেইল Mintuislam59@gmail.com, আমাদের দৈনিক প্রাণের শহর বিডি অনলাইনে সারাদেশের পাঠকরা নিউজ পাঠাতে পারেন" নিউজ পাঠানোর ইমেইল pranershohorbd@gmail.com এ। আমাদের খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।