দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে সন্তান সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ও ভালোবাসার জায়গা। সন্তানকে ঘিরে তাঁরা ভবিষ্যতের নানা স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু অসতর্কতা, ভুল সঙ্গ কিংবা অনলাইন ও বাস্তব জীবনের নানা ঝুঁকির কারণে সেই স্বপ্ন কখনো কখনো হঠাৎই দুঃখজনক ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
তাই আপনার সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি।
আপনার সন্তানকে সময় দিন। আপনি যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, প্রতিদিন কিছুটা সময় সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। তার পড়াশোনা কেমন চলছে, নিয়মিত স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে—এসব বিষয়ে খোঁজ নিন। সন্তানের কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে তাকে বকাঝকা না করে বন্ধুর মতো কথা বলার চেষ্টা করুন।
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটও সন্তানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বয়স ও প্রয়োজন বিবেচনা করে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ দিন। সন্তান কী ধরনের ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহার করছে, সে বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
শুধু নিষেধ করলেই হবে না—সন্তানকে ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝাতে হবে।
অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সন্দেহজনক প্রস্তাব, মাদক, অপরাধপ্রবণতা কিংবা অনলাইন প্রতারণার মতো ঝুঁকি সম্পর্কে তাকে সচেতন করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, শুধু বাইরের মানুষ নয়—পরিচিতজনদের মাধ্যমেও শিশু-কিশোররা বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই অন্ধ বিশ্বাস না করে সন্তানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একটি সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানকে সময় দিন, তার কথা শুনুন, তার বন্ধু ও চলাফেরার বিষয়ে খোঁজ রাখুন এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ান।
সামান্য সচেতনতা ও ভালোবাসাই পারে একটি শিশুকে বিপদ থেকে দূরে রাখতে এবং তার সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
সন্তান আপনার স্বপ্ন—তাই তার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের দায়িত্বও আপনার।

