এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনটে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি এবং গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (৩৬)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের বাকসাপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলী প্রামানিকের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) দিবাগত রাতে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার হরিনাথপুর রাজাপুর এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধুনট থানা সূত্রে জানা যায়, ধুনট থানার এফআইআর নং-১৮ (তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) এবং জি.আর. নং-৩৬ মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় এজাহারের ১৮ নম্বর আসামি হিসেবে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সন্ধ্যায় ধুনট শহীদ মিনার চত্বরে একটি মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এজাহার অনুযায়ী, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কয়েকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেন। এতে কয়েকজন আহত হন এবং তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৫০৬ ও ১১৪ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ৩, ৪, ৫ ও ৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তিতে রফিকুল ইসলাম সামান্য আহত হন। পরে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসামিকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়েছে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামকে শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) সকালে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশের দাবি, মামলাটির তদন্ত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

