এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ক্রীড়ামোদী তরুণদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থায়নে এ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) বিকেল ৩টায় মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিকুল ইসলাম।
মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ফিরোজ, প্রধান শিক্ষক আফছার আলী, নুর কুতুবুল আলম, আতিকুর রহমান খোকন, আবু সাহমা, আফরোজ্জাহান বন্যা, বিএনপি নেতা জেল হোসেন ঠান্ডু, আবুল কালাম আজাদ (দুলাল), আব্দুল মান্নান, মাহফুজার রহমান এবং ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারার পাশাপাশি মাঠমুখী করতে হলে খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, “যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে ক্রীড়াচর্চা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।”
সভায় বক্তারা বলেন, সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, “মাদকের ভয়াবহতা থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। যুবকদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
অনুষ্ঠান শেষে ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফুটবল তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষক ও অভিভাবকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

