এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনটে বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি এজাহাভুক্ত এক নম্বর পলাতক আসামি মো. রফিকুল ইসলাম মধু (৫০),কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন পূর্ব নামাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম মধু বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের উলুরচাপড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া এবং র্যাব-১-এর সিপিসি-১, উত্তরা ঢাকার যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট সকালে কিশোরীর বড় বোন প্রয়োজনীয় কাজে বাড়ির বাইরে যান। ওই সময় কিশোরী বাড়িতে একা ছিল। পরে তাকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে ধুনট থানার মথুরাপুর ইউনিয়নের উলুরচাপড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত মনোহারী ঘরের ভেতর কিশোরীকে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।
র্যাব জানায়, কিশোরী বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার কাছ থেকে ইশারার মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। পরে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ধুনট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলাটি গত ২৫ আগস্ট দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ২০ এবং জিআর নম্বর ১৫৭। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর থেকেই রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্প গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, তিনি ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন পূর্ব নামাপাড়া এলাকায় অবস্থান করছেন।
এর ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে সিপিএসসি বগুড়া, র্যাব-১২ এবং র্যাব-১-এর সিপিসি-১, উত্তরা ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল পূর্ব নামাপাড়া এলাকার মাহিন জেনারেল স্টোরের সামনের পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলাম মধুকে গ্রেপ্তার করে।
পরে গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বগুড়ার ধুনট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ জানান, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

