শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও শুরু হতে যাচ্ছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কল্যাণী নৌকা বাইচ মেলা। আগামীকাল রবিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সাত দিনব্যাপী এ মেলা। মেলাটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মো. সিরাজের।
দীর্ঘ বিরতির পর ঐতিহ্যবাহী এ মেলা আয়োজনের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ নৌকা বাইচ ও মেলার নানা আয়োজন উপভোগ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
মেলা উপলক্ষে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছেন আয়োজকরা। সাত দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের সুনামধন্য দি লায়ন সার্কাস, নাগরদোলা, ট্রেন নৌকা, ফার্নিচারের দোকান, বাহারি রকমের মিষ্টির দোকান, চুড়ি-পট্টি, মাছের দোকানসহ ছোট-বড় নানা ধরনের দোকান ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদন ও কেনাকাটার থাকছে নানা সুযোগ।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মেলা এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি পুরো মেলা সিসি ক্যামেরার আওতায় রেখে নজরদারি করা হবে।
মেলা কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির বিপ্লব বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঐতিহ্যবাহী কল্যাণী নৌকা বাইচ মেলা আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। মেলায় আগত মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূরনবী মন্ডল হিটলার বলেন, “সাত দিনব্যাপী মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেলা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে আয়োজক কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। সবার সহযোগিতায় সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।”
দীর্ঘ ১৭ বছর পর কল্যাণী নৌকা বাইচ মেলা ফিরে আসায় এরই মধ্যে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে আয়োজন সম্পন্ন হলে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা আবারও শেরপুরের অন্যতম বড় লোকজ উৎসবে পরিণত হবে।

