পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার সাঁথিয়ায় চাঞ্চল্যকর আব্দুল আজিজ সরদার (৫৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিহতের কাছ থেকে লুট করা ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সাঁথিয়া থানা পুলিশ এসব তথ্য জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের একটি পুকুরে এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সাঁথিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের সময় নিহতের গলায় কাটা দাগ এবং পিঠ ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ব্যক্তি আব্দুল আজিজ সরদার (৫৫)। তিনি সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গামাজ গ্রামের মৃত মেকের সরদারের ছেলে।
এ ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর সাঁথিয়া থানায় মামলা নম্বর-১১ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ২০১/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মুনসুর আলী (৩৪), মো. সেলিম প্রামাণিক (৪০) ও মো. আকাশ মোল্লাকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সেলিম প্রামাণিক ও মুনসুর আলীকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এ সময় সেলিম প্রামাণিকের হেফাজত থেকে নিহতের কাছ থেকে লুট করা ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, নিহত আব্দুল আজিজ সরদার ছোট পরিসরে পেঁয়াজের ব্যবসা করতেন এবং অবিবাহিত ছিলেন। তিনি সাধারণত নিজের ব্যবসার টাকা পরিহিত লুঙ্গির কোচরে রাখতেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিহতের প্রতিবেশী হওয়ায় তার কাছে টাকা থাকার বিষয়টি জানতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ব্যবসায়িক টাকা নেওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুল আজিজকে হত্যা করা হয়। পরে তার কাছে থাকা টাকা নিয়ে আসামিরা ভাগ করে নেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সেলিম প্রামাণিক তার ভাগে ৬ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করেন এবং বাকি ৪ হাজার ৫০০ টাকা তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। মুনসুর আলীও ৬ হাজার টাকা পেয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে, যা তিনি পারিবারিক কাজে খরচ করেছেন। অপর গ্রেপ্তার আকাশ মোল্লা ৪ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে তদন্তে জানা গেছে। বাকি টাকা অপর এক পলাতক আসামি নিয়ে গেছে বলে পুলিশের দাবি।
পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অন্যান্য আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয়
মো. মুনসুর আলী (৩৪): পিতা—মো. দুলাল প্রামাণিক; মাতা—মোছা. মমতেজা খাতুন; ডাঙ্গামাজ গ্রাম, সাঁথিয়া, পাবনা।
মো. সেলিম প্রামাণিক (৪০): পিতা—মো. আবু সামাদ প্রামাণিক; মাতা—মোছা. কমলা বেগম; ডাঙ্গামাজ গ্রাম, সাঁথিয়া, পাবনা।
মো. আকাশ মোল্লা (২৯): পিতা—মো. হুমিস আলী মোল্লা; ডাঙ্গামাজ গ্রাম (উত্তরগ্রাম), সাঁথিয়া, পাবনা।

