দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
ফিশিং লিংকের মাধ্যমে সফটওয়্যার আপডেটের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের শাহীদ আল ইমরান সৌরভ (৩৬) এবং রংপুরের কোতোয়ালীর ইসলামপুর এলাকার মো. সাগর হোসেন (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে সফটওয়্যার আপডেট সংক্রান্ত একটি মেসেজ আসে। মেসেজটি দেখার পর মোবাইল ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তিনি ফোনটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি।
পরে মোবাইলের ডিসপ্লে চালু হলে মেসেজের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে তিনি দেখতে পান, মোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পল্টন থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার মামলাটি অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করা হয়। এরপর ২ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি জানায়, রাত ১টা ১৫ মিনিটে রংপুরের ডিসি বাংলোর মোড়সংলগ্ন গোমস্তাপাড়া এলাকা থেকে শাহীদ আল ইমরান সৌরভকে এবং রাত ২টা ৩৫ মিনিটে হনুমানতলা, চিকলী এলাকা থেকে মো. সাগর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের সময় শাহীদ আল ইমরানের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের তিনটি চেকবই, একটি ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, একটি ভিসা ডেবিট কার্ড, একটি Symphony বাটন ফোন এবং একটি Infinix স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর হোসেন জানায়, ফেসবুক ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ করত সে। প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উত্তোলন করে অনলাইনে দেশের বাইরে থাকা সহযোগীদের কাছে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে তারা কমিশন পেত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার দুজনের ঘটনায় সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো লিংকে প্রবেশ না করতে সবাইকে সতর্ক করেছে। বিশেষ করে সফটওয়্যার আপডেট, পুরস্কার, চাকরি, ব্যাংকিং সেবা কিংবা অন্য কোনো প্রলোভন দেখিয়ে পাঠানো অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো লিংক বা মেসেজ পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

