বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শ্বশুরবাড়িতে গেছেন আলোচিত তরুণী তাসনিয়া রানা তামান্না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত, আদালতের নির্দেশনা এবং বিয়ের আইনগত বৈধতা নিয়ে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার পুলিশ কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়ে তামান্না। এ ঘটনায় তাঁর বাবা অপহরণের অভিযোগে থানায় মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে রাজশাহীর একটি সেফ হোমে রাখা হয়। ওই সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন বলে জানা গেছে।
গত ২৬ অক্টোবর তামান্নার ১৮ বছর পূর্ণ হয়। এরপর তাঁকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের ইচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে থাকার কথা জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আদালত তাঁকে নিজের জিম্মায় থাকার অনুমতি দেন।
আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা
আদালতের কার্যক্রম শেষে বের হওয়ার পর তামান্নাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে তামান্না জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।
বিয়ের বয়স নিয়ে বাবার আপত্তি
এদিকে তামান্নার বিয়ের বয়স নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁর বাবা। তাঁর দাবি, তামান্নার স্বামীর বয়স মাত্র ২০ বছর।
বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, পুরুষের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং নারীর ১৮ বছর। সে হিসাবে স্বামীর বয়স নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য হলে বিয়েটির আইনগত বৈধতা ও প্রযোজ্য বিধান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে বিয়ের তারিখ, বয়সের প্রমাণ এবং ঘটনার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির আইনগত অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে।
আলোচনায় ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইন
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা ও মতবিরোধ। একদিকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজের জীবন ও জীবনসঙ্গী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, অন্যদিকে বিয়ের আইনগত শর্ত এবং পরিবারের উদ্বেগ—সবকিছুই সামনে এসেছে।
তামান্নার সিদ্ধান্তের পর তাঁর পরিবার নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয় কি না এবং বিয়ের আইনগত বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
তামান্নার আগামী দিনের জীবন সুন্দর ও শান্তিময় হোক—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন অনেকে।

