এম, এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার ধুনট পৌর শহরে নির্মাণাধীন ড্রেনে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ১৭ মিটার অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর আল মুন মুনসুর শোয়াইব। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুনট কৃষি অফিস চত্বর থেকে পূর্বভরনশাহী গ্রামের পাশ দিয়ে ইছামতী নদী পর্যন্ত ১ হাজার ৬২৬ মিটার দীর্ঘ একটি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রনি এন্টারপ্রাইজ।
তবে নির্মাণকাজে রড ও সিমেন্টের ব্যবহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, কাজের মান প্রত্যাশিত না হওয়ায় ড্রেনটির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে গত বুধবার এলাকাবাসী নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে চলে যেতে বলেন। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে শ্রমিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পৌর কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পৌর প্রশাসক মীর আল মুন মুনসুর শোয়াইব সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে নির্মাণকাজে ত্রুটি ও অনিয়ম দেখতে পেয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে ত্রুটিপূর্ণভাবে নির্মিত ১৭ মিটার ড্রেন ভেঙে ফেলে নির্ধারিত নকশা ও নির্মাণমান অনুসরণ করে পুনরায় নির্মাণের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক মীর আল মুন মুনসুর শোয়াইব বলেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা কিংবা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। প্রকল্পের কাজের গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম ও ত্রুটি পাওয়ায় ১৭ মিটার ড্রেন ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পৌরসভার উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং প্রশাসনের এমন তদারকি উন্নয়নকাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

