এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের চিথুলীয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. লতিফন খাতুন (৫০) ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার চিথুলীয়া গ্রামের মৃত মতিউর রহমান প্রাংয়ের কন্যা লতিফন খাতুন নিজ নামে রেজিস্ট্রি করা কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয়কৃত ৪ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে একই গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি তার বসতভিটার মধ্যে ২ শতক জমি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওই জমির মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং ক্রেতাপক্ষ বায়না হিসেবে ১ লাখ টাকা প্রদান করেন। তবে অবশিষ্ট ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ কিংবা রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না করেই অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ওই জমিতে টিনের ঘর নির্মাণ করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
লতিফন খাতুনের দাবি, পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি বায়নার ১ লাখ টাকা ফেরত দিলেও অভিযুক্তরা সম্পাদিত স্ট্যাম্প ফেরত না দিয়ে কৌশলে স্থান ত্যাগ করেন। ফলে বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার বসতবাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে দুজন মারমুখী আচরণ করেন এবং প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. উজ্জল হোসেন, মো. বিপুল হোসেনসহ আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
ভুক্তভোগী জানান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নিকট আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে তিনি ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিথুলীয়া মৌজার আরএস খতিয়ান নম্বর ২৪৪, ১৫১ ও ১৭৯-এর আওতাভুক্ত সংশ্লিষ্ট দাগের মোট ৪ শতক জমির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রাজ্জাক শেখ বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

