এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের গুলারতাইড় গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গুলারতাইড় মিনিবার নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্থানীয় একটি মাঠে অনুষ্ঠিত এ ফাইনাল খেলাকে ঘিরে গ্রামজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। খেলা দেখতে গুলারতাইড়সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের শত শত দর্শক মাঠে ভিড় করেন। নারী দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় উদীয়মান তরুণ সমাজসেবক নাঈমুল ইসলামের একক উদ্যোগে এবং গুলারতাইড় যুব সংঘের সার্বিক সহযোগিতায় এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। তরুণদের মাদক, কিশোর অপরাধ ও নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই ব্যতিক্রমী এই নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।
ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই মাঠসংলগ্ন এলাকায় দর্শকদের আনাগোনা শুরু হয়। সন্ধ্যার পর দর্শকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাতের আঁধারেও আলোর ঝলমলে পরিবেশে ফুটবল খেলা উপভোগ করেন দর্শকরা। খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা গুলারতাইড় প্রাইমারি স্কুলের মাঠটির বেহাল দশা তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। তারা বলেন, গ্রামের শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য একটি মানসম্মত খেলার মাঠের বিকল্প নেই। মাঠটি সংস্কার করা হলে নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সমাজসেবক নাঈমুল ইসলাম বলেন, “চিকাশী ইউনিয়নের গুলারতাইড় গ্রামে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। গুলারতাইড় প্রাইমারি স্কুলের যে ছোট্ট মাঠটি রয়েছে, সেটিও বর্তমানে খেলাধুলার অনুপযোগী। ফলে এলাকার তরুণদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, তরুণদের অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে লাগানোর অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে খেলাধুলা। মাঠের অভাবে যদি তরুণরা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে সামাজিকভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধুনট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধুনট উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান তমাল ও অ্যাডভোকেট মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে নাঈমুল ইসলামের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশ ও মাঠ সংকটের মধ্যেও আলোর ব্যবস্থা করে রাতের বেলায় তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে তারা গুলারতাইড় প্রাইমারি স্কুলের মাঠটি দ্রুত সংস্কারের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও তুলে ধরা হয়। গুলারতাইড় গ্রামের কৃতী সন্তান জহুরুল ইসলাম অমি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের হাতে উপহার হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির পরিবেশবান্ধব গাছের চারা তুলে দেন। খেলাধুলার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার এমন উদ্যোগ উপস্থিত দর্শক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়ায়।
ফাইনাল খেলা শেষে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে অতিথিরা বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, মেডেল ও বৃক্ষ উপহার তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জমকালো এ নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি খেলার মাঠ একটি এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য শুধু বিনোদনের স্থান নয়; এটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থাকলে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি হয়। পাশাপাশি মাদকাসক্তি ও অপরাধপ্রবণতা থেকে তাদের দূরে রাখতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশ, খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের স্বার্থে গুলারতাইড় প্রাইমারি স্কুলের মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে স্থায়ীভাবে খেলাধুলার উপযোগী করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে -এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

