এম,এ রাশেদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ২০ হাজার তালবীজ রোপণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ‘আমরা ধুনটবাসী কল্যাণ সংস্থা’ চলতি মৌসুমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শেরপুর উপজেলার রনবীরবালা ঘাট থেকে ধুনট উপজেলার মাঠপাড়া গ্রাম পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
তালবীজ রোপণ উৎসবে শেরপুর ও ধুনট উপজেলার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। উদ্বোধনের দিন আগে থেকে সংগ্রহ করা কয়েক হাজার তালবীজ সড়কের দুই পাশে রোপণ করা হয়। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে চলতি মৌসুমে ২০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হবে।
কর্মসূচিতে সহযোগী সংগঠন হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া), বর্ণ বিলাস পাঠাগার ও সংগ্রহশালা, লাল ভালোবাসা এবং ধুনট সেন্ট্রাল লাইব্রেরি।
তালবীজ রোপণ উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা ধুনটবাসী কল্যাণ সংস্থা’র সভাপতি আঁখিনূর জামান বকুল, সাধারণ সম্পাদক মোনাজ্জেমুল ইসলাম সুমন, বর্ণ বিলাস পাঠাগার ও সংগ্রহশালার প্রতিষ্ঠাতা সাদিকুল বাশার শিশির এবং বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও পরিবেশকর্মী এস এম আরিফুল আমিন প্লাবন।
তালবীজ রোপণ উৎসব-২০২৬-এর সমন্বয়কারী আঁখিনূর জামান বকুল বলেন, ২০১৬ সাল থেকে সংগঠনটির উদ্যোগে ধুনট এলাকায় নিয়মিত তালবীজ রোপণ করা হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এটি তাদের ধারাবাহিক পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ। এ বছর ২০ হাজার তালবীজ রোপণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ধুনট এলাকায় তালগাছ এখন অনেকটাই কমে গেছে। তাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তালগাছের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তারা।
আঁখিনূর জামান বকুল আরও বলেন, তালবীজ রোপণের পাশাপাশি সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নত জাতের আমের চারা বিনা মূল্যে উপহার হিসেবে রোপণ করে দেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার আমের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠনে বকুল, কৃষ্ণচূড়া, জারুল, চেরি ও কাঠবাদামসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও পরিবেশকর্মী এস এম আরিফুল আমিন প্লাবন বলেন, বাওয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও কাজ করছে। কারণ বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে সুস্থ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এমন উদ্যোগগুলো মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

