এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায় দীর্ঘদিনের বেহাল একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাফিজুর রহমান হিরু।
মহাস্থানগড় উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং হযরত শাহ সুলতান বলখী (র.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো দর্শনার্থী, মুসল্লি ও পর্যটক এখানে আসেন। তবে মহাস্থান-নামুজা আঞ্চলিক সড়কের মহাস্থান ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন অংশটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা-পানিতে ডুবে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মুসল্লি এবং দর্শনার্থীদের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাফিজুর রহমান হিরুর নজরে আসে। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য তার প্রতিনিধিদের পাঠান এবং পরবর্তীতে নিজস্ব অর্থায়নে রাবিশ ও খোয়া ফেলে সড়কটি সাময়িকভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও বড় বড় গর্তের কারণে যেখানে যানবাহন চলাচল ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে এখন সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে প্রায়ই মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হতো। চলন্ত গাড়ির চাকার ছিটকে ওঠা কাদা-পানিতে নষ্ট হতো পথচারী ও মাজারে আগত মুসল্লিদের পোশাক।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অবশেষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম বলেন, “এ ধরনের কাজ মূলত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ববোধ থেকে হিরু ভাই নিজ উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার করছেন। এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি একজন মানবিক মানুষ।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রাবিয়া বলেন, “রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে অনেক মানুষকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হতে দেখেছি। এখন রাস্তা সংস্কার হওয়ায় আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমবে। হিরু ভাইয়ের জন্য আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা রইল।”
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাফিজুর রহমান হিরু বলেন, “এই সড়কের দুরবস্থার ওপর প্রকাশিত একটি সচিত্র সংবাদ আমার নজরে আসে। আমাদের ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, তাও আবার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ও পবিত্র মাজারসংলগ্ন এলাকায় এমন করুণ অবস্থা আমাকে ব্যথিত করেছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যেই আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নে আপাতত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। মানুষের সেবা করাই আমার লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনদুর্ভোগ নিরসনে এমন কার্যক্রম সমাজের অন্য বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধিদেরও অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সড়কটির স্থায়ী সংস্কার এবং ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন।

