এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি খাদ্য তৈরি, মানসনদহীন রাসায়নিক ফ্লেভার ব্যবহার এবং হালনাগাদ বিএসটিআই সনদ ছাড়াই খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে বগুড়ার ময়ূরী বেকারিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বগুড়া মহানগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চক সূত্রাপুর এলাকায় ময়ূরী বেকারি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসন, বগুড়ার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহরাব হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে।
অভিযানকালে কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি খাদ্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়। পাশাপাশি গুণগত মান যাচাইয়ের সনদবিহীন রাসায়নিক ফ্লেভার ব্যবহার, হালনাগাদ বিএসটিআই মানসনদ ছাড়া খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্যকর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়।
এ ছাড়া খাদ্য তৈরির কাজে এসএস স্টিলের টেবিলের পরিবর্তে কাঠের টেবিল ব্যবহার করা হচ্ছিল। ওই টেবিলগুলোও যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়নি বলে অভিযানে দেখা যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অপরাধ স্বীকার করা হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৪ ধারায় অপরাধ সংঘটনের দায়ে ময়ূরী বেকারিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
এদিকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়।
অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেলসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে ময়ূরী বেকারি কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে সরকারের প্রচলিত সব আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

