বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ায় দাগ ও ডিপি খতিয়ান নম্বরে ভুল থাকা এবং আদালতে বিচারাধীন একটি জমি প্রভাবশালী মহল বলপ্রয়োগ করে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমিটির ওয়ারিশ দাবিদার মো. আরমান মন্ডল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
আরমান মন্ডল জানান, বগুড়া সদর উপজেলার মালগ্রাম মৌজার ৩০ শতাংশ জমিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। জমিটির সিএস খতিয়ান নম্বর ৩০৭। তাঁর অভিযোগ, ২০১১ সালের ১৩ এপ্রিল ৮১০৭ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে মো. আনোয়ার মন্ডল অন্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে এককভাবে জমিটি কয়েকজনের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ২০২২ সালের ২ অক্টোবর ১১ ৬১৬ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে ওই জমির পাঁচ শতাংশ মজনু মিয়া ও মোছা. শহিদা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আরমান মন্ডলের দাবি, ওই দলিলে দাগ ও ডিপি খতিয়ান নম্বর ভুল রয়েছে। এমনকি দলিলে উল্লেখিত জমির অবস্থানের সঙ্গে বাস্তব জমিরও কোনো মিল নেই। পরবর্তীতে মজনু মিয়া ও শহিদা খাতুন নামজারি করলে তিনি গত ১৭ আগস্ট বগুড়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদালতে নামজারি খারিজ বাতিলের মামলা করেন। তাঁর দাবি, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী মহল জমিটি নতুন করে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে সাব-রেজিস্ট্রার ইতিপূর্বে কয়েকবার দলিল রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন আরমান মন্ডল।
তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিচারাধীন জমির দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আহ্বান জানান আরমান মন্ডল।

