এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
‘জুলাই আন্দোলনের’ বীর শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া গ্রামে শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারত করেন তিনি।
কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাইদের বাবা মো. মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং শহীদ পরিবারের পাশে সরকার সবসময় থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
পরে শহীদ আবু সাইদের বাবা-মাকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, “রংপুর হচ্ছে বীর সন্তানের জেলা। এ জেলা নিয়ে পুরো দেশ গর্ব করে। শহীদ আবু সাইদ শুধু ইতিহাস নন, তিনি অনুপ্রেরণার নাম। আবু সাইদ জাতীয় সম্পদ এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের সূতিকাগার।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ আবু সাইদের স্মৃতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ, কবর সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ‘আবু সাইদ ফাউন্ডেশনকে’ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আবু সাইদকে শুধু তাঁর গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। তাঁর স্মৃতিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আবু সাইদ স্টেডিয়াম’ করার কথা জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, “আবু সাইদ আমাদের প্রেরণা, আবু সাইদ আমাদের শক্তির উৎস।” তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত উত্তরাঞ্চলকে দেশের উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রংপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটানো হবে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রসঙ্গ
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং সব কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কোনো ধরনের তদবির, দালাল বা টাউট-বাটপারের খপ্পরে না পড়তে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধর্মীয় পেশাজীবীদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে জানান তিনি।
লংমার্চ ও সার সংকট নিয়ে বক্তব্য
১১ দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেল-গ্যাস সংকটের কথা বলে লংমার্চে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। সংসদের বাইরে বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচিকে তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সারের সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের নির্বাচিত কিছু এলাকায় কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে জনগণের সরকারকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় শহীদ আবু সাইদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ দেখা যায়। এ সময় তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ ও পরিবারের পাশে থাকার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।

